Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2017

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:-

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:- ১নং দলিল কোরআন দ্বারা- তারা তাক্বলীদে শাখছী ওয়াজিবের প্রমাণস্বরূপ নি¤েœর আয়াত সমূহ উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন- ্রيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًاগ্ধ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর,নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্তি হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের  প্রতি প্রত্যার্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এইটা কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’(সূরা নিসা ৪:৫৯) তারা যেভাবে দলিল দেয়: এখানে আল্লাহ ‘ঊলুল আমর’ অর্থাৎ বিচারক/ফক্বীহ বা ইমামদের মানার জন্য বলেছেন,তাই “ঊলুল আমরকে’ মানা ওয়াজিব। সুতরাং এক ইমামকেই মানতে হবে। মাযহাব উত্তর: ‘ঊলুল আমর’ দ্বারা উদ্দেশ্য শাসকগণ,আলেম ও ফ...

তাক্বলীদ-এর পরিণাম

তাক্বলীদ-এর পরিণাম প্রথম: তাক্বলীদের সর্বোপেক্ষা বড় কুফল হল দলীল বিমুখতা। মুক্বাল্লিদ ব্যক্তি আলেম বা জাহিল যে হুক না কেন,কুরআন ও হাদীস হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করার অধিকার তার থাকে না। তাকে স্বীয় ইমাম বা মাযহাবী ফতওয়া অনুসারে কথা বলতে হয়। এই দলীল বিমুখতার ফলে প্রায় হাজার বছর পূর্বেকার বিভিন্ন ক্বিয়াসী সিদ্ধান্ত,যার কোন কোনটি কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বিরোধী,তা ইসলামের নামে মুসলমানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং যা আজও চলছে। দ্বিতীয়: তাক্বলীদের ফলে অনুসরণীয় ব্যক্তির প্রতি সৃষ্টি হয় অন্ধ ভক্তি। আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক বিভেদ ও দলাদলি। এক ও অখন্ড মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে হওয়ার মূল কারণ হ’ল এই তাক্বলীদ। উল্লেখ্য: মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে ৮০১ হিজরীতে কা’বা শরীফে চার মাযহাবের জন্য চার মুছাল্লা কায়েম করা হয়। তৃতীয়: তাক্বলীদের অনুসারী ব্যক্তি স্পষ্ট সহীহ হাদীস পাওয়া সত্ত্বেও তা মানতে পারেন না কেবল এই কারণে যে,হাদীসটি তাঁর মাযহাবের বিরুদ্ধে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের উপরে বিদ্ধানগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দানকারী...

তাক্বলীদের সংজ্ঞা:

তাক্বলীদের সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থ: তার কয়েকটি অর্থ আছে- ক. তাক্বলীদ ‘ক্বালাদাতুন’ শব্দ থেকে বুৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ কন্ঠহার বা রশি। ‘ক্বালাদাল বা’ঈরা-সে উটের গলায় রশি বেঁধেছে’। সেখান থেকে মুক্বাল্লীদ,যিনি নিজের গলায় কারো আনুগত্যের রশি বেঁধে নিয়েছেন। খ. ্র قلده في عنقه من غير تعمد ولا نظر গ্ধ অর্থাৎ কোন প্রকার চিন্তা ও দেখা ব্যতীত কারো গলায় কন্ঠাভরণ করা (আল মুনজিদ)। যেমন আল্লাহ বলেন,্র يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَগ্ধ  (হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হরমে কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে,যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে)। (সূরা মায়েদা ৫:২)। গ. খ্রীষ্টানদের সিনা থেকে সিনা কথাগুলোকে তাক্বলীদ বলে (মিসবাহুল লোগাত,পৃ ৭০১,হামীদিয়া লাইব্রেরী লিমিটেড,ঢাকা-১২১১) উল্লেখ্য: আধুনিক আরবীতে তাক্বলীদ ‘নকল জিনিস’-এর অর্থে ব্যবহার করা হয়। এ জন্যে জিনিসের উপরে লিখা থাকে ্রاحذروا عن التقليدগ্ধঅর্থাৎ নকল থেকে সাবধান!। তাই পূর্ণ কোরআন ও হাদীস খ...

ইমামের কথার কারণে শরীয়ত পরিবর্তণ করা অবৈধ:

ইমামের কথার কারণে শরীয়ত পরিবর্তণ করা অবৈধ:  কারণ ইসলাম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে পেয়েছি। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ থেকে কিছুই বলেন না,শুধু মাত্র যা আল্লাহ বলেন তা বলতেন,অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা অন্য কোন মানুষের কথার কারণে প্রত্যাহার করার অর্থ হল আল্লাহর কথা প্রত্যাহার করা। যেমন আল্লাহ বলেন; ক. ্রوَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَىগ্ধএবং(নবী) প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কুরআন ওহী,যা প্রত্যাদেশ হয়।(সুরা নাজম ৫২:৩-৪)। খ .্রوَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًاগ্ধ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। (সূরা আহযাব ৩৩: ৩৬)। গ. ্রقُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُب...

মাযহাবের সংজ্ঞা:

মাযহাবের সংজ্ঞা: মাযহাবের আভিধানিক অর্থ: লিসানুল আরবে এর কয়েকটি অর্থ লিখেছেন। ক. উজু খানা/শৌচাগার,কারণ সেখানে মানুষ বার বার যায় । খ. তরিক্বা বা পদ্ধতি গ. উৎস বা আসল ঘ. বিশ্বাস বা ধর্ম। (খন্ড ১ পৃ ৩৯৪)। # আর মাযহাব যদি মাসদার মীমি নেয়া হয় তখন তার অর্থ কোথাও যাওয়া। # যদি ইসমুজ জামান ওয়াল মাকান নেয়া হয় তার অর্থ হবে কোথাও যাওয়ার স্থান,যেখানে মানুষ বার বার যায়। মাযহাবের পারিভাষিক সংজ্ঞা: ‘ মাওয়াহিবুল জালীল ফি শরহি মুখতাসারীল খলীল’ (ইমাম মালেক (রঃ) এর মাযহাব এর উপর লিখিত গ্রন্থে) বলা হয়েছে মাযহাব অর্থ রাস্তা,পথ কোথাও যাওয়ার স্থান,কিন্তু পরবর্তীতে তা অন্য অর্থ ধারন করে। ‘কোন মুজতাহীদ ইমামের কোন গবেষনাকে বুঝায়,আর যে তা মানে তাকে মাযহাবী বলে’।