মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:-
১নং দলিল কোরআন দ্বারা-
তারা তাক্বলীদে শাখছী ওয়াজিবের প্রমাণস্বরূপ নি¤েœর আয়াত সমূহ উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন-
্রيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًاগ্ধ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর,নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্তি হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এইটা কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’(সূরা নিসা ৪:৫৯)
তারা যেভাবে দলিল দেয়: এখানে আল্লাহ ‘ঊলুল আমর’ অর্থাৎ বিচারক/ফক্বীহ বা ইমামদের মানার জন্য বলেছেন,তাই “ঊলুল আমরকে’ মানা ওয়াজিব। সুতরাং এক ইমামকেই মানতে হবে।
মাযহাব
উত্তর:
‘ঊলুল আমর’ দ্বারা উদ্দেশ্য শাসকগণ,আলেম ও ফুক্বাহাগণ। এখানে কয়েকটি বিষয় খিয়াল করুন।
প্রথম:
ক. ‘ঊলুল আমর’ বহুবচন তার দ্বারা একজন বোঝায় না। কিভাবে তার দ্বারা একজন ইমাম মানা ওয়াজীব হয়,প্রমাণ করুন ?
খ. ইবনে হাজার আসক্বালানী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
্র فَأَعَادَ أَطِيعُوا فِي الرَّسُولِ وَلَمْ يُعِدْهُ فِي أُولِي الْأَمْرِ لِأَنَّهُمْ لَا اسْتِقْلَالَ لَهُمْ فِي الطَّاعَةِ كَاسْتِقْلَالِ الرَّسُولِ انْتَهَى مُلَخَّصًগ্ধএখানে আল্লাহ ও তার রাসূলের উভয়ের জন্যে ‘আতিয়ূ’ বা আনুগত্য শব্দ ব্যবহার করেছে,কিন্তু ঊলুল আমরের জন্যে আলাদা করে “আতিয়ূ” শব্দ উল্লেখ করেনি। কারণ আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা নিজেই দলিল। তাদের কথা অনুসারে আমল করার জন্যে অন্য দলিলের প্রয়োজন নাই। কিন্তু ‘ঊলূল আমরের’ কথা নিজে দলিল না,বরং তাদের কথা মতে আমল করার জন্যে দলিল লাগবে। দলিল ছাড়া তাদের কথা আমল করা যাবে না’। (ফাতহুল বারী খ ১,পৃ ৬২)।
দ্বিতীয়:
উক্ত আয়াতের শানে নুযূল পড়লে তা আরো ভালভাবে পরিষ্কার হবে। আয়াতটা অবতীর্ণ হয়েছে,আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা বিন ক্বায়েস সম্পর্কে যেমনটা বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে। আর মুসনাদে আহমদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামুদ্রিক অভিযানে একজন আনসারীকে আমির বানিয়ে পাঠালেন। যার নেতা ছিল আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা বিন ক্বায়েস। তিনি কোন কারণে তাদের উপর রাগান্বিত হলে তাদেরকে কাঠ একত্রিত করার জন্যে বলেন এবং তারা তা করলেন। তারপর নেতা বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আদেশ মান্য করার জন্যে বলেন নি ? তারা বলেন হ্যাঁ। অতঃপর বলেন আগুন জ¦ালাও এবং তাতে তোমরা প্রবেশ কর। তখন তাদের মধ্যে দু’দল হয়ে গেল একদল আনুগত্যের জন্যে আগুনে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিল,অন্য দল বলল আমরা আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর যখন এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন,তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
্রلَوْ دَخَلُوهَا مَا خَرَجُوا مِنْهَا أَبَدًا، لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي المَعْرُوفِগ্ধতোমরা আগুনে প্রবেশ করলে আর ক্বেয়ামত পর্যন্ত আগুন থেকে বের হতে পারতে না।
আর জেনে রাখ! আনুগত্য শুধু শরঈত নির্দেশিত বিষয়ে, আর শরঈত বিরোধী বিষয়ে কোন আনুগত্য নেই। (ইবনে কাসীর,খ ২,পৃ ৩৪২,মুসলিম,হা/১৮৩৯-৪০,খ ৩,পৃ ১৪৬৯;বুখারী,হা/৭১৪৪-৪৫,খ ৯,পৃ ৬৩)
চিন্তাকরুন! যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে নেতা বানিয়েছেন তার আদেশ শরঈত গর্হিত কাজে আনুগত্য নাই,তাহলে কি করে অন্য কারো কথাই শরঈত বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে মানতে হবে ?
তৃতীয়:
শাইখুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া (রঃ) বলেন-
্রأَمَّا وُجُوبُ اتِّبَاعِ الْقَائِلِ فِي كُلِّ مَا يَقُولُهُ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ دَلِيلٍ يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ مَا يَقُولُ فَلَيْسَ بِصَحِيحِ؛ بَلْ هَذِهِ الْمَرْتَبَةُ هِيَ مَرْتَبَةُ الرَّسُولِগ্ধ
কারো দলিল ছাড়া কথা মানা ওয়াজিব মনে করা ঠিক না,কারণ এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্তর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কারো জন্যে হতে পারেনা (মাজমুউল ফতওয়া, খ ৩০, পৃ ১২১)।
১নং দলিল কোরআন দ্বারা-
তারা তাক্বলীদে শাখছী ওয়াজিবের প্রমাণস্বরূপ নি¤েœর আয়াত সমূহ উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন-
্রيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًاগ্ধ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর,নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্তি হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যার্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এইটা কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’(সূরা নিসা ৪:৫৯)
তারা যেভাবে দলিল দেয়: এখানে আল্লাহ ‘ঊলুল আমর’ অর্থাৎ বিচারক/ফক্বীহ বা ইমামদের মানার জন্য বলেছেন,তাই “ঊলুল আমরকে’ মানা ওয়াজিব। সুতরাং এক ইমামকেই মানতে হবে।
‘ঊলুল আমর’ দ্বারা উদ্দেশ্য শাসকগণ,আলেম ও ফুক্বাহাগণ। এখানে কয়েকটি বিষয় খিয়াল করুন।
প্রথম:
ক. ‘ঊলুল আমর’ বহুবচন তার দ্বারা একজন বোঝায় না। কিভাবে তার দ্বারা একজন ইমাম মানা ওয়াজীব হয়,প্রমাণ করুন ?
খ. ইবনে হাজার আসক্বালানী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
্র فَأَعَادَ أَطِيعُوا فِي الرَّسُولِ وَلَمْ يُعِدْهُ فِي أُولِي الْأَمْرِ لِأَنَّهُمْ لَا اسْتِقْلَالَ لَهُمْ فِي الطَّاعَةِ كَاسْتِقْلَالِ الرَّسُولِ انْتَهَى مُلَخَّصًগ্ধএখানে আল্লাহ ও তার রাসূলের উভয়ের জন্যে ‘আতিয়ূ’ বা আনুগত্য শব্দ ব্যবহার করেছে,কিন্তু ঊলুল আমরের জন্যে আলাদা করে “আতিয়ূ” শব্দ উল্লেখ করেনি। কারণ আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা নিজেই দলিল। তাদের কথা অনুসারে আমল করার জন্যে অন্য দলিলের প্রয়োজন নাই। কিন্তু ‘ঊলূল আমরের’ কথা নিজে দলিল না,বরং তাদের কথা মতে আমল করার জন্যে দলিল লাগবে। দলিল ছাড়া তাদের কথা আমল করা যাবে না’। (ফাতহুল বারী খ ১,পৃ ৬২)।
দ্বিতীয়:
উক্ত আয়াতের শানে নুযূল পড়লে তা আরো ভালভাবে পরিষ্কার হবে। আয়াতটা অবতীর্ণ হয়েছে,আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা বিন ক্বায়েস সম্পর্কে যেমনটা বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে। আর মুসনাদে আহমদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামুদ্রিক অভিযানে একজন আনসারীকে আমির বানিয়ে পাঠালেন। যার নেতা ছিল আব্দুল্লাহ বিন হুযায়ফা বিন ক্বায়েস। তিনি কোন কারণে তাদের উপর রাগান্বিত হলে তাদেরকে কাঠ একত্রিত করার জন্যে বলেন এবং তারা তা করলেন। তারপর নেতা বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আদেশ মান্য করার জন্যে বলেন নি ? তারা বলেন হ্যাঁ। অতঃপর বলেন আগুন জ¦ালাও এবং তাতে তোমরা প্রবেশ কর। তখন তাদের মধ্যে দু’দল হয়ে গেল একদল আনুগত্যের জন্যে আগুনে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিল,অন্য দল বলল আমরা আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর যখন এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন,তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
্রلَوْ دَخَلُوهَا مَا خَرَجُوا مِنْهَا أَبَدًا، لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي المَعْرُوفِগ্ধতোমরা আগুনে প্রবেশ করলে আর ক্বেয়ামত পর্যন্ত আগুন থেকে বের হতে পারতে না।
আর জেনে রাখ! আনুগত্য শুধু শরঈত নির্দেশিত বিষয়ে, আর শরঈত বিরোধী বিষয়ে কোন আনুগত্য নেই। (ইবনে কাসীর,খ ২,পৃ ৩৪২,মুসলিম,হা/১৮৩৯-৪০,খ ৩,পৃ ১৪৬৯;বুখারী,হা/৭১৪৪-৪৫,খ ৯,পৃ ৬৩)
চিন্তাকরুন! যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে নেতা বানিয়েছেন তার আদেশ শরঈত গর্হিত কাজে আনুগত্য নাই,তাহলে কি করে অন্য কারো কথাই শরঈত বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে মানতে হবে ?
তৃতীয়:
শাইখুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া (রঃ) বলেন-
্রأَمَّا وُجُوبُ اتِّبَاعِ الْقَائِلِ فِي كُلِّ مَا يَقُولُهُ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ دَلِيلٍ يَدُلُّ عَلَى صِحَّةِ مَا يَقُولُ فَلَيْسَ بِصَحِيحِ؛ بَلْ هَذِهِ الْمَرْتَبَةُ هِيَ مَرْتَبَةُ الرَّسُولِগ্ধ
কারো দলিল ছাড়া কথা মানা ওয়াজিব মনে করা ঠিক না,কারণ এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্তর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কারো জন্যে হতে পারেনা (মাজমুউল ফতওয়া, খ ৩০, পৃ ১২১)।
Comments
Post a Comment