Skip to main content

তাক্বলীদের সংজ্ঞা:

তাক্বলীদের সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থ: তার কয়েকটি অর্থ আছে-
ক. তাক্বলীদ ‘ক্বালাদাতুন’ শব্দ থেকে বুৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ কন্ঠহার বা রশি। ‘ক্বালাদাল বা’ঈরা-সে উটের গলায় রশি বেঁধেছে’। সেখান থেকে মুক্বাল্লীদ,যিনি নিজের গলায় কারো আনুগত্যের রশি বেঁধে নিয়েছেন।
খ. ্র قلده في عنقه من غير تعمد ولا نظر গ্ধ অর্থাৎ কোন প্রকার চিন্তা ও দেখা ব্যতীত কারো গলায় কন্ঠাভরণ করা (আল মুনজিদ)।
যেমন আল্লাহ বলেন,্র يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَগ্ধ  (হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হরমে কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে,যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে)। (সূরা মায়েদা ৫:২)।
গ. খ্রীষ্টানদের সিনা থেকে সিনা কথাগুলোকে তাক্বলীদ বলে (মিসবাহুল লোগাত,পৃ ৭০১,হামীদিয়া লাইব্রেরী লিমিটেড,ঢাকা-১২১১)
উল্লেখ্য: আধুনিক আরবীতে তাক্বলীদ ‘নকল জিনিস’-এর অর্থে ব্যবহার করা হয়। এ জন্যে জিনিসের উপরে লিখা থাকে ্রاحذروا عن التقليدগ্ধঅর্থাৎ নকল থেকে সাবধান!। তাই পূর্ণ কোরআন ও হাদীস খোঁজাখোঁজীর পরও কোথাও তাক্বলীদ শব্দ পাবেন না।
পারিভাষিক অর্থ: তার কয়েকটি অর্থ আছে।
1. মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী(রঃ) বলেন,‘অন্যের কোন কথা বিনা দলীলে গ্রহণ করার নাম তাক্বলীদ’। এইভাবে গ্রহণ করার ফলে ঐ ব্যক্তি যেন নিজের গলায় রশি পরিয়ে নিল’(মোল্লা আলী ক্বারী প্রণীত শরত ক্বাছীদাহ আমালী-র বরাতে হাক্বীক্বাতুল ফিক্বহ [বোম্বাই:দাঊদ রায কর্তৃক সংশোধিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ,তাবি] পৃঃ ৪৪)।
2. ইমাম শাওকানী(রঃ) বলেন,তাক্বলীদ হল রায়-এর অনুসরণ এবং ‘ইত্তেবা’ হল রেওয়ায়াতের অনুসরণ। ইসলামে ‘ইত্তেবা’ সিদ্ধ এবং তাক্বলীদ নিষিদ্ধ। (শাওকানী,আল-ক্বওলুল মুফীদ [মিসরী ছাপা ১৩৪০/১৯২১ খৃ:] পৃঃ১৪)
3. আল্লামা মুনাওয়ী(রঃ) (‘আল ফায়জুল ক্বাদীর’ শরহে যামিয়ুছ ছগীরের লেখক)বলেন-
্র اتباع الإنسان غيره فيما يقوله أو يفعله معتقدا حقيته من غير نظر وتأمل في الدليل كأن المتبع جعل قول الغير أو فعله قلادة في عنقهগ্ধ  অর্থাৎ মানুষ অন্যকে অনুসরণ করা,যা সে বলেছে অথবা করেছে,একথা বিশ্বাস করে যে,তিনি সঠিক,তার দলীলে চিন্তা ও গবেষণা করে না,যেন মুক্বাল্লীদ অন্যের কথা,কর্মকে নিজের গলায় কন্ঠহার ঝুলাল(আত্-তাওক্বিফ আলা-মুহিম্মাত্-িতাঈরীফ,খ ১,পৃ ১০৬)।
তাক্বলীদের উদাহরণ:
ক. তাক্বলীদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত যে কোন অপরিচিত স্থানে গেল,আর ক্বিবলা অজানা থাকার কারণে চিন্তাকরে কোন একদিকে নামায পড়লে তার নামায হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ বলে দিলে তারপরও কি ভুলে যেদিকে নামায পড়েছিল,সেদিকে নামায পড়া বৈধ হবে ?
খ. অথবা ঐ ব্যক্তির মত যে অন্ধ হওয়ার কারণে অন্য কারো আশ্রয় গ্রহণ করে চলে। আর তাক্বলীদও অন্ধভাবে কারো আশ্রয় নিয়ে চলার মত। কিন্তু যার চোখ আছে সেও কি অন্য কারো আশ্রয় নিয়ে চলবে ?
# ঠিক একইভাবে যে পড়া লেখা করতে পারে সেও কি অন্ধভাবে চলবে ? আর তাক্বলীদ অজ্ঞ ব্যক্তি করে,কিন্তু তাই বলে কি একটি মাদ্রাসার শাইখুল হাদীস(হাদীসের বিশেষজ্ঞ)ও কি অজ্ঞের মত তাক্বলীদ করবে ?
# ইমাম সুয়োতী বলেন: ্রإن المقلد لا يسمى عالماগ্ধমুক্বাল্লীদকে আলেম বলা হয় না,যেমনটা নকল করেছেন আবুল হাসান সিন্দি হানাফী তার ইবনে মাজার হাশিয়ায়। আর এর উপর একমত হয়েছেন ইমাম শাওকানী (ইরশাদুল ফুহুলে পৃ ২৩৬) আর বলেন :্রإن التقليد جهل وليس بعلمগ্ধতাক্বলীদ হ’ল অজ্ঞতা,আর এটা ইলম না। (আল-হাদীস হুজ্জিয়াতুন বিনাফসিহী ফিল আক্বায়িদ ওয়াল আহকাম, আল্লামা নাসিরউদ্দীন আলবানী,খ ১,পৃ ৭৩)
গ. অথবা তাক্বলীদ তায়াম্মুমের মত। যখন পানি পাওয়া যাবে না তখন তায়াম্মুম বৈধ,তবে যখন পানি পাওয়া যাবে  তখন তায়াম্মুম বৈধ না। ঠিক একইভাবে না জানা পর্যন্ত তাক্বলীদ বৈধ। তবে এ অজানাবস্থা কি সবসময় থাকতে হবে? বরং জানার পর তাকে দলিলের অনুসরণ করতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

মাযহাবের সংজ্ঞা:

মাযহাবের সংজ্ঞা: মাযহাবের আভিধানিক অর্থ: লিসানুল আরবে এর কয়েকটি অর্থ লিখেছেন। ক. উজু খানা/শৌচাগার,কারণ সেখানে মানুষ বার বার যায় । খ. তরিক্বা বা পদ্ধতি গ. উৎস বা আসল ঘ. বিশ্বাস বা ধর্ম। (খন্ড ১ পৃ ৩৯৪)। # আর মাযহাব যদি মাসদার মীমি নেয়া হয় তখন তার অর্থ কোথাও যাওয়া। # যদি ইসমুজ জামান ওয়াল মাকান নেয়া হয় তার অর্থ হবে কোথাও যাওয়ার স্থান,যেখানে মানুষ বার বার যায়। মাযহাবের পারিভাষিক সংজ্ঞা: ‘ মাওয়াহিবুল জালীল ফি শরহি মুখতাসারীল খলীল’ (ইমাম মালেক (রঃ) এর মাযহাব এর উপর লিখিত গ্রন্থে) বলা হয়েছে মাযহাব অর্থ রাস্তা,পথ কোথাও যাওয়ার স্থান,কিন্তু পরবর্তীতে তা অন্য অর্থ ধারন করে। ‘কোন মুজতাহীদ ইমামের কোন গবেষনাকে বুঝায়,আর যে তা মানে তাকে মাযহাবী বলে’।

তাক্বলীদ-এর পরিণাম

তাক্বলীদ-এর পরিণাম প্রথম: তাক্বলীদের সর্বোপেক্ষা বড় কুফল হল দলীল বিমুখতা। মুক্বাল্লিদ ব্যক্তি আলেম বা জাহিল যে হুক না কেন,কুরআন ও হাদীস হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করার অধিকার তার থাকে না। তাকে স্বীয় ইমাম বা মাযহাবী ফতওয়া অনুসারে কথা বলতে হয়। এই দলীল বিমুখতার ফলে প্রায় হাজার বছর পূর্বেকার বিভিন্ন ক্বিয়াসী সিদ্ধান্ত,যার কোন কোনটি কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বিরোধী,তা ইসলামের নামে মুসলমানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং যা আজও চলছে। দ্বিতীয়: তাক্বলীদের ফলে অনুসরণীয় ব্যক্তির প্রতি সৃষ্টি হয় অন্ধ ভক্তি। আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক বিভেদ ও দলাদলি। এক ও অখন্ড মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে হওয়ার মূল কারণ হ’ল এই তাক্বলীদ। উল্লেখ্য: মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে ৮০১ হিজরীতে কা’বা শরীফে চার মাযহাবের জন্য চার মুছাল্লা কায়েম করা হয়। তৃতীয়: তাক্বলীদের অনুসারী ব্যক্তি স্পষ্ট সহীহ হাদীস পাওয়া সত্ত্বেও তা মানতে পারেন না কেবল এই কারণে যে,হাদীসটি তাঁর মাযহাবের বিরুদ্ধে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের উপরে বিদ্ধানগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দানকারী...

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:-

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:- ১নং দলিল কোরআন দ্বারা- তারা তাক্বলীদে শাখছী ওয়াজিবের প্রমাণস্বরূপ নি¤েœর আয়াত সমূহ উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন- ্রيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًاগ্ধ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর,নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্তি হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের  প্রতি প্রত্যার্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এইটা কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’(সূরা নিসা ৪:৫৯) তারা যেভাবে দলিল দেয়: এখানে আল্লাহ ‘ঊলুল আমর’ অর্থাৎ বিচারক/ফক্বীহ বা ইমামদের মানার জন্য বলেছেন,তাই “ঊলুল আমরকে’ মানা ওয়াজিব। সুতরাং এক ইমামকেই মানতে হবে। মাযহাব উত্তর: ‘ঊলুল আমর’ দ্বারা উদ্দেশ্য শাসকগণ,আলেম ও ফ...