Skip to main content

তাক্বলীদ-এর পরিণাম

তাক্বলীদ-এর পরিণাম
প্রথম: তাক্বলীদের সর্বোপেক্ষা বড় কুফল হল দলীল বিমুখতা। মুক্বাল্লিদ ব্যক্তি আলেম বা জাহিল যে হুক না কেন,কুরআন ও হাদীস হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করার অধিকার তার থাকে না। তাকে স্বীয় ইমাম বা মাযহাবী ফতওয়া অনুসারে কথা বলতে হয়। এই দলীল বিমুখতার ফলে প্রায় হাজার বছর পূর্বেকার বিভিন্ন ক্বিয়াসী সিদ্ধান্ত,যার কোন কোনটি কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বিরোধী,তা ইসলামের নামে মুসলমানের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং যা আজও চলছে।
দ্বিতীয়: তাক্বলীদের ফলে অনুসরণীয় ব্যক্তির প্রতি সৃষ্টি হয় অন্ধ ভক্তি। আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক বিভেদ ও দলাদলি। এক ও অখন্ড মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে হওয়ার মূল কারণ হ’ল এই তাক্বলীদ।
উল্লেখ্য: মুসলিম মিল্লাত বিভিন্ন মাযহাবী দল ও উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে ৮০১ হিজরীতে কা’বা শরীফে চার মাযহাবের জন্য চার মুছাল্লা কায়েম করা হয়।
তৃতীয়: তাক্বলীদের অনুসারী ব্যক্তি স্পষ্ট সহীহ হাদীস পাওয়া সত্ত্বেও তা মানতে পারেন না কেবল এই কারণে যে,হাদীসটি তাঁর মাযহাবের বিরুদ্ধে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের উপরে বিদ্ধানগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দানকারী ব্যক্তি কখনোই মুমিন হ’তে পারে না (সূরা নিসা ৪:৬৫)
চতুর্থ: মুক্বাল্লিদ ব্যক্তি এক ইমামের তাক্বলীদ করতে গিয়ে বাস্তবে অসংখ্য বিদ্বানের মুক্বাল্লিদ হয়ে পড়েন। ফলে বিনা দলীলে ফতওয়া গ্রহণের সুযোগে ধর্মের নামে সমাজে সৃষ্টি হয়েছে রকমারি শিরক ও বিদ’আত। অথচ যার নামে ফতওয়া প্রধান করা হচ্ছে,গবেষণায় দেখা যাবে যে,তিনি এ সবের নাড়ী-নক্ষত্রও খবর রাখেন না।
পঞ্চম: তাক্বলীদের সর্বোপেক্ষা মারাত্মক পরিণতি হল ইজতিহাদ বা শরঈত গবেষণার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া।
এ সম্পর্কে আল্লামা নাসিরউদ্দীন আলবানী (রঃ) বলেন:
্রفقد ادعوا أن المجتهد المطلق قد فقد واشتهر عندهم أن باب الاجتهاد قد أغلق بعد القرن الرابع الهجري وقد ذكر نحوه ابن عابدين في حاشيته وبذلك منعوا المسلمين من التفقه بالكتاب والسنة وأوجبوا عليهم التقليد لأحد الأئمة الأربعة كما قال في "الجوهرة"গ্ধ
তাদের কেউ কেউ দাবী করেন যে,মুযতাহিদে মুতলাক্বের যুগ শেষ,এবং তাদের কাছে প্রসিদ্ধ হয়েছে যে,ইজতিহাদের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে চতুর্থ শতাব্দী হিজরীতে,আর এমনটাই উল্লেখ করেছেন ইবনে আবেদীন তার হাশিয়াতে (খ ১,পৃ ৫৫১) ফলে তারা মুসলমানদের কুরআন ও হাদীস থেকে ফিক্বার জ্ঞানার্জনকে নিষেধ করেন। আর তাদের উপর চার মাযহাবের মধ্যে এক মাযহাবকে ওয়াজিব করে দিচ্ছে,যেমনটা বলা হয়েছে ‘জওহারাহ’ নামক কিতাবে। (আল-হাদীস হুজ্জিয়াতুন বিনাফসিহী ফিল আক্বায়িদ ওয়াল আহকাম,আল্লামা নাসিরউদ্দীন আলবানী,খ ১ পৃ ৮৩)
# ড.ইক্ববাল বলেছিলেন:“তাক্বলীদকি রাবিশছে বেহতরহে খুদখুশী---;রাস্তা বীহি ড়োড় আওর খিজির কি দামন বী ছোড়”। অর্থাৎ তাক্বলীদের আবর্জনা থেকে উত্তম আত্মহত্যা; রাস্তাও খোঁজোও খিজিরের সম্পর্কও ছেড়ে দাও।
ষষ্ঠ: নিজের মাযহাবেরটাই সঠিক মনে করে আর অপরের মাযহাবকে বাতিল মনে করে,যেমন আল্লামা খজরাবী তার (আত্ তাশরীঈয়ুল ইসলামি পৃ ৩৩২)-এ বলেন:
্রإذا سئلنا عن مذهبنا ومذهب مخالفنا؟ قلنا وجوبا: مذهبنا صواب يحتمل الخطأ ومذهب مخالفنا خطأ يحتمل الصواب وإذا سئلنا عن معتقدنا ومعتقد خصومنا قلنا وجوبا: الحق ما نحن عليه والباطل ما عليه خصومناগ্ধ
তাদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় তাদের ও তাদের বিপরীত মাযহাব সম্পর্কে তখন তারা বলেন আমাদের মাযহাব সঠিক,তবে ভুলের সম্ভাবনাও আছে। আর যখন প্রশ্ন করা হয় তাদের ও তাদের বিপরীত মাযহাবের বিশ^াস সম্পর্কে তখন তারা বলেন আমরা যার উপর তাই হক্ব,আর আমাদের বিপরীত মাযহাব যার উপর তা বাতিল। (আল-হাদীস হুজ্জিয়াতুন বিনাফসিহী ফিল আক্বায়িদ ওয়াল আহকাম, আল্লামা নাসিরউদ্দীন আলবানী,খ ১ পৃ ৮৪)

Comments

Popular posts from this blog

মাযহাবের সংজ্ঞা:

মাযহাবের সংজ্ঞা: মাযহাবের আভিধানিক অর্থ: লিসানুল আরবে এর কয়েকটি অর্থ লিখেছেন। ক. উজু খানা/শৌচাগার,কারণ সেখানে মানুষ বার বার যায় । খ. তরিক্বা বা পদ্ধতি গ. উৎস বা আসল ঘ. বিশ্বাস বা ধর্ম। (খন্ড ১ পৃ ৩৯৪)। # আর মাযহাব যদি মাসদার মীমি নেয়া হয় তখন তার অর্থ কোথাও যাওয়া। # যদি ইসমুজ জামান ওয়াল মাকান নেয়া হয় তার অর্থ হবে কোথাও যাওয়ার স্থান,যেখানে মানুষ বার বার যায়। মাযহাবের পারিভাষিক সংজ্ঞা: ‘ মাওয়াহিবুল জালীল ফি শরহি মুখতাসারীল খলীল’ (ইমাম মালেক (রঃ) এর মাযহাব এর উপর লিখিত গ্রন্থে) বলা হয়েছে মাযহাব অর্থ রাস্তা,পথ কোথাও যাওয়ার স্থান,কিন্তু পরবর্তীতে তা অন্য অর্থ ধারন করে। ‘কোন মুজতাহীদ ইমামের কোন গবেষনাকে বুঝায়,আর যে তা মানে তাকে মাযহাবী বলে’।

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:-

মাযহাবীরা মাযহাব মানার জন্য যেসব দলীল দেয় এবং সেগুলোর উত্তর:- ১নং দলিল কোরআন দ্বারা- তারা তাক্বলীদে শাখছী ওয়াজিবের প্রমাণস্বরূপ নি¤েœর আয়াত সমূহ উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন- ্রيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًاগ্ধ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর,নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্তি হয়ে পড়,তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের  প্রতি প্রত্যার্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও ক্বেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এইটা কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’(সূরা নিসা ৪:৫৯) তারা যেভাবে দলিল দেয়: এখানে আল্লাহ ‘ঊলুল আমর’ অর্থাৎ বিচারক/ফক্বীহ বা ইমামদের মানার জন্য বলেছেন,তাই “ঊলুল আমরকে’ মানা ওয়াজিব। সুতরাং এক ইমামকেই মানতে হবে। মাযহাব উত্তর: ‘ঊলুল আমর’ দ্বারা উদ্দেশ্য শাসকগণ,আলেম ও ফ...